স্যার আর্থার চার্লস ক্লার্ক (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক , বিজ্ঞান লেখক, , উদ্ভাবক, সমুদ্রের তলদেশে অনুসন্ধানকারী) বলেছেন –
‘জ্যোতিষশাস্ত্রে আমার কোনো বিশ্বাস নেই। তবে হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে আমি ধনু রাশির জাতক। আসলে আমরা মানুষরা বরাবরই সন্দেহপ্রবণ’।
এ কথার বিপরীতে অনেক কথাই আছে, তবে আমরা একটা বিষয় পরিস্কার করে বলতে চাই- মানুষ নিজেই তাঁর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে অনেকাংশ, বাকি অংশ ভাগ্য বলতে দোষের কিছু নেই…
আপনার এই সপ্তাহ (২০ সেপ্টেম্বর – ২৬ সেপ্টেম্বর)

লালন সাঁইজির সুফি কালাম-
“যা আছে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে,তা আছে মানব ভান্ডে।”
আগে জয় করা প্রয়োজন আপনার নিজের মনটাকে। পরে অন্যেরটা…
আমাকে রাশিফলগুলো ছোট ছোট করে লিখতে ইচ্ছা হয় না, তবে আপনারা যদি বিরক্ত হন এই ভয়ে ছোট ছোট করে বলি! ভয় পাবেন না, ছোট করেই বড় কথা বলে ফেলেছি আগেই।

গত সপ্তাহে রাশিফল পড়ে একজন আমাকে সরাসরি জানালো- তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। আবার অনেকেই ভাবছেন রাশিফল বর্ণনা করতে গিয়ে এ ব্যাটা আজাইরা প্যাচাল কেন করছে? আরে ভাই, এটাই তো ভবিষ্যদ্বাণী, এটাই তো আপনার রাশিফল। যে যা বলে বলুক, যা….ই… হোক না কেন- মেজাজ ঠান্ডা রাখুন, আজ থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই চর্চা জারি রাখুন, পরে দেখবেন আপনি সারা জীবনের জন্য পারছেন… (গোপন কথা বলি-আমি পারি না)

মিথুনকে বলা হয়েছে: রাশি শাস্ত্রের ‘সম্ভবত সবচেয়ে স্মার্ট সদস্য’। জেনে নিশ্চয় খুব গর্ব হচ্ছে আপনার। আমার মতে অন্য রাশিতেও বহু স্মার্ট জাতক-জাতিকা পাওয়া যাবে। এ সপ্তাহে বানান ভুল করিয়েন না, কেন বললাম? কবিতাটা পড়ুন-
‘বানান ভুল হলে
কাছের মানুষও কাচের হয়ে যায়;
উপরে তার চন্দ্রবিন্দু থাকে না’।
– সাম্য রাইয়ান।

“যখন তোমার উড়ার ক্ষমতা আছে, তখন কেন মাটির ওপর হামাগুড়ি দিয়ে চলবে?
– মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি
কর্কট আপনাকে অনুরোধ করি, অতীত মনে রাখলেও অতীতের মধ্যে বাস করার চর্চাটা ছেড়ে দিন।

এ সপ্তাহে আপনাকে শান্তনার বাণী শোনাতে পারছি না, শুধু পরামর্শ দিতে পারি—কেউ আপনাকে মনে কষ্ট দিলে আপনি চলার পথে থমকে দাঁড়াবেন না, প্লিজ। আমার পিতা আমাকে বলতেন- ‘পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে হার মানাতে , প্রকৃতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ভালোবাসা’। নিখাদ ভালোবাসার কাছে সমর্পিত হয় না এমন জীব খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

আমি বৃষ্টিতে হাঁটি যাতে কেউ আমার অশ্রু দেখতে না পারে।
– চার্লি চ্যাপলিন
স্মৃতির বৃষ্টিতে ভিজতে থাকুন! আপনার হাসি-কান্না কে দেখছে?

প্রতিদিন কিছু ইচ্ছেকে পুড়িয়ে মারি
প্রতিদিন কিছু ইচ্ছেকে পাঠাই নির্বাসনে
ভালবাসা কি ভীষণ প্রতারক
হৃদয় ভেঙেছে যার সেই জানে … ”
– জয় গোস্বামী
খবরদার, আমার কাছে কিছু লুকাবেন না। সত্যি করে বলুনতো- সপ্তাহের শুরুতে এতো ভেঙ্গে পড়ার মত কি হলো?

আমার খুব পছন্দের এক ছোটবোন জানালো- ‘আমি রাশি বিশ্বাস করি না, এগুলো মনগড়া লিখিত’। এরপর কিছু কথা হয়েছে তাঁর সাথে, সেসব না হয় নাই বলি! তবে যেটা এখন বলি সেটা শুনতে ভালো নাও লাগতে পারে-
মানসিক যন্ত্রণার একটাই চিকিৎসা— কেউ একজন একবার এসে, খুব স্নেহ দিয়ে সত্যি করে বলুক,
“তুমি ঠিক আছো?”
এখানে বিজ্ঞান টেকে না…কিন্তু আশ্চার্য কি জানেন, বিজ্ঞান ছাড়া এখন জীবন যাত্রা অচল!

শোনেন প্রিয় ধনু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়কাল থেকে, আরো নির্দিষ্ট করে বললে ১৯৫০ ও ৬০ এর দশকের সময়ে সাহিত্যজগতে এক নতুন ধারার নাটক জনপ্রিয় হতে শুরু করে যা পরিচিতি পায় ‘অ্যাবসার্ড ড্রামা’ নামে। এই নাটকে কোন গল্প নেই, নাটকের চরিত্র সংখ্যা থাকে খুবই কম। নাটকে বলার মতো তেমন অসাধারণ কোনো সংলাপ থাকে না। নাটকের চরিত্রদয়ের কথাবার্তা হয় খুবই কম বেশিরভাগই কাটে নিরবতায়। যেসব কথাবার্তা হয় তার বেশিরভাগই অর্থহীন, আর মাত্র একটি স্থানেই পুরো নাটকের সবকিছু ঘটে যায়। উপর থেকে দেখলে মনে হবে এই নাটকের কিছুই নেই। কিন্তু এসব নাটকের অন্তর্নিহিত বিশাল অর্থ থাকে, যা নাটকের দর্শকদের গভীর চিন্তা ও উপলব্ধি করতে শেখায়।
কেন জানি না মনে হচ্ছে- কিছু ‘অ্যাবসার্ড ড্রামা’ এ সপ্তাহে আপনার দেখা বা পড়া উচিৎ ( অপেক্ষা করুন, এমন ঘটনা ঘটতেও পারে, পড়া থাকলে মিলিয়ে নিতে পারবেন।)

আপনাকে আজ জেতাব। হাসবেন না, সত্যি বলছি! আপনার হাসিটা সুন্দর! মুগ্ধ হবার মতো! আপনার এই মুগ্ধ করা হাসি- চিরকাল থাকুক। আমার ভয় হচ্ছে- আপনার এই মুগ্ধ করা হাসি দেখে আমি না আবার প্রেমে ভাসি… আমি না ভাসলেও অন্য কেউ ভাসবে, এটা বলা যায়।

দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তরে, শুভ্র কাশফুলের সঙ্গে ভেজা তুলার মতো ভাসমান সাদা মেঘের ভেলার মিতালি চোখে পড়ে আশ্বিনেই। আশ্বিন শুরু হয়েছে গতকাল, আপনি জানেন না?
ভেবেছিলাম অনেক কথা বলবো আজ, অথচ আপনার সময় নেই! মেঘের ভেলায় ভাসতে ভাসতে প্রিয় কুম্ভ, খুব প্রিয় একটা গান শুনুন আর ভাবুন, জর্জ হাবার্ট এর সেই বিখ্যাত বাণী-
“বেফাঁস কথা বলার চেয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়”।

গত সপ্তাহে আপনাকে অনেক কথা বলতে পারি নাই।
এ সপ্তাহেও বলবো না ! রেগে যাবেন না, দয়া করে। একটা চিরচেনা-জানা গল্প বলি-
গ্রীক মিথলজি মতে, প্যান্ডোরার বাক্স পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে দুঃখ দূর্দশা। পেন্ডোরার অতিরিক্ত কৌতূহলের জন্য বাক্স থেকে বেরিয়ে এসেছিলো শক্তি, হিংসা, ঘৃণা, দুঃখ, জরা, শোকের মতো অশুভ সব শক্তিগুলো। পেন্ডোরা যখন বুঝলেন সাথে সাথেই বাক্সটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। সকল অশুভ শক্তিগুলি ততক্ষণে মিশে গিয়েছিলো পুরো পৃথিবীতে মানুষদের মনের অন্তরে। পরে এপিমিথিউস ঘরে ফিরে দেখলেন স্ত্রী পেন্ডোরা কাঁদছে। এপিমিথিউসকে আগের ঘটনা দেখানোর জন্য প্যান্ডোরা আবারো বাক্স খুললেন। এবার বাক্স থেকে বেরিয়ে এলো শুভ শক্তি আশা। শুভ শক্তি আশা তাকে মুক্ত করার জন্য পেন্ডোরাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিশে গেলো পুরো পৃথিবীর মানুষের মাঝে।
এই গল্প আমি নিজেকে বারবার শোনাই।
জেনে রাখা ভালো-
১. জন্ম তারিখ অনুযায়ী ক্ষেত্র বিশেষে রাশি মেলে না (বেশ কিছু হিসাব থেকে যায়)।
২. এখানে রাশিচক্রে আমি ‘সংখ্যা তত্ত্ব-জ্যোতিষ’ পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করেছি।
৩. ভাগ্য অনেক ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট কারণে নিজের গতিপথ বদলাতে পারে এবং করেও।

1 Comment