স্যার আর্থার চার্লস ক্লার্ক (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক , বিজ্ঞান লেখক, , উদ্ভাবক, সমুদ্রের তলদেশে অনুসন্ধানকারী) বলেছেন –
‘জ্যোতিষশাস্ত্রে আমার কোনো বিশ্বাস নেই। তবে হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে আমি ধনু রাশির জাতক। আসলে আমরা মানুষরা বরাবরই সন্দেহপ্রবণ’।
এ কথার বিপরীতে অনেক কথাই আছে, তবে আমরা একটা বিষয় পরিস্কার করে বলতে চাই- মানুষ নিজেই তাঁর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে অনেকাংশ, বাকি অংশ ভাগ্য বলতে দোষের কিছু নেই…
আপনার এই সপ্তাহ (২৬ সেপ্টেম্বর – ০৩ অক্টোবর )

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়, হয়তো মানুষ নয়—শঙ্খচিল শালিকের বেশে। – জীবনানন্দ দাশ
এই আশ্বিনে আপনার দেখা পাবো, ভাবি নাই। কাজেই ব্যথা পেলেও অতটা না, যতটা ভাবছেন! বুকের ভিতরের ধুক-ধুক করা গোপন সত্যটা যদি বেরিয়ে আসে, তখন হয়তো জানতে পারবেন-
‘শঙ্খচিল শালিকের বেশে মানুষটা আমি’।
ঘাবড়ে যাবেন না প্রিয় মেষ, রাশিচক্রে আপনার চেয়ে শক্তিশালী মনোবল খুব কম হয়, তবুও কবিতাময় মানুষদের সাথে আপনাদের সখ্যতা আমাকে বিমুগ্ধ করে।

দ্য টেল অব টু লাভার বইটি ১৫ শতকে এনিয়া সিলভিও বার্তোলোমিও পিকোলোমিনি‘র লেখা একটি প্রেমের উপন্যাস।
সেই সময়ের মানুষের জন্য কামোত্তেজক উপন্যাস লেখা অস্বাভাবিক ছিল। অতএব, লোকেরা এনিয়ার প্রত্যাশার বাইরে বইটির প্রশংসা করেছে।
অতিরিক্ত প্রশংসা ও পরিচিতি এনিয়ার জীবনকে নাজুক করে তুলেছিলো তাই নিজের জীবনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন এনিয়া। আর তাই তিনি পোপ হওয়ার পথ বেছে নেন। ১৪৫৮ সালে তাকে পোপের মুকুট দেয়া হয় এবং তার নাম দেয়া হয় ‘পোপ পিয়াস দ্বিতীয়’। খ্যাতির বিড়ম্বনা!
আমার মনে হয়, শান্ত বৃষ, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আর মিটি মিটি হাসছেন!

হিব্রু একটা প্রবাদ আছে– ‘আমি জানি না’ বলতে শেখাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
আমি জানি না, এইটা লজ্জার না। আমি জানতে চাই না, এইটা লজ্জার।
জানা শোনার মধ্যে ভুল-ভ্রান্তি কেটে যায়। ভুল-ভ্রান্তিগুলো কেটে যাক- শুভ কামনা রইলো, আপনার জন্য।

ইশক পার জোর নেহি হ্যায় ইয়ে ওহ আতিশ গালিব, জো লাগায়ে না লাগে অউর বুজায়ে না বানে’। – মির্জা গালিব
আমার উপর রাগ করে আছেন, তাই না? কি করবো বলেন? গালিব কি সুন্দর করে নিজেকে বলছেন-
‘প্রেমের উপর জোর জবরদস্তি চলে না গালিব! এটা সেই আগুন,যা জ্বালাতে চাইলেই জ্বলে না, আর নিভালে চাইলেই নিভে না’।
আমি বড়জোর বলতে পারি- আপনার কল্যাণ হোক।

পবিবার মানে, খুব সহজে কি বোঝেন? অনেক ব্যাখ্যা থাকা সত্যেও আমি ছোট্ট করে নিজেকে শোনাই বার-বার,
‘হে ঐশ্বর্যবান
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান,
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়’।– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কি ভাবছেন? এতো দিয়েছেন তবুও আপনি ঋণী? বাদ দেন, ফরাসি লেখক ও দার্শনিক আলবার্ট কামুসের একটি বিখ্যাত ফিলোসফিক্যাল উপন্যাস ‘দ্য আউটসাইডার’ পড়ার জন্য এই সপ্তাহ আপনার জন্য উপযুক্ত সময়।

মধ্যযুগে জার্মানিতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝামেলা বাধলে সেটা আইনগতভাবেই মারামারি করে সমাধানের বেশ কয়েকটি অদ্ভুত উপায় ছিল! এর মধ্যে একটি এমন ছিলো- যেহেতু প্রকৃতিগতভাবেই পুরুষেরা নারীদের থেকে বেশি শারিরিকভাবে শক্তিশালী। তাই এমন অবস্থায় মারামারিতে ছেড়ে দিলে স্বামীদের জেতার সম্ভাবনাই যে অনেক বেড়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ( যদিও এই যুগে এই তত্ত্ব সত্য নয় বলে আমার কাছে মনে হয়)। এই সমস্যা দূরীকরণে স্বামীকে একটি গর্তে আবদ্ধ রাখার পাশাপাশি তার একটি হাতও পেছনের দিকে বেধে রাখা হতো। ফলে তাকে লড়তে হতো একহাতে, একস্থানে থেকেই। ওদিকে স্ত্রী থাকতো মুক্ত। দুজনের হাতেই দেয়া হতো দুটো মুগুর।লড়াইয়ে স্বামী হেরে গেলে তাকে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো। আর যদি স্ত্রী হেরে যেতো তখন তাকে স্বামীর গর্তে পাঠিয়ে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
ভেবে দেখুন না প্রিয় কন্যা, কে জিতলো, কে হারলো?

‘গণ্ডি ভেঙে আগুন মেঙে কোথায় চলেছিস
যেথায় খুশি যাচ্ছি আমি, তোদের বাবার কী
এই দেশেতে কবির জন্ম দগ্ধ অভিশাপ
বেশ্যাকূলে সীতার সামিল, ভস্মে ঢালার ঘি’।
নবারুণ ভট্টাচার্য কবি সম্পর্কে অপকটে কি নিদারুণ সত্যটা বলেছে, পড়লেন! সাথে এটাও জেনে রাখুন- অনেক কবি তুলা রাশির, সকল কবি তুলা রাশির না। আবার তুলা রাশির সকলেই কবি না!

খুব তুচ্ছ কারণে কাঁদতে পারাটা আমার কাছে ভালো লক্ষণ মনে হয়।
খুব করে অঝোর ধারায় কাঁদতে পারলে, নিজেকে হালকা লাগে। মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে।
আচ্ছা, জীবনের যে কোন পর্যায়ে, আপনি কি বিষাদের চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে ডুকরে ডুকরে কেঁদেছেন?
আমরা অনেক পরে যা দেখবো, দূরদর্শী বৃশ্চিক আজ তা দেখে। আর দেখে বলেই কাঁদতে-কাঁদতে ইচ্ছাঘুড়ি উড়াতে পারে, আপনিও পারবেন।

ঘরে যদি শ্যামলা বা চাপা গায়ের রং সাথে হালকা মোটা বিবাহ উপযুক্ত কন্যা থাকে সেই পিতা-মাতার চেয়ে দুশ্চিন্তা চিন্তাগ্রস্থ মানুষ আপনি পাবেন না!
এমন হয়েছে-
বড় কন্যা যথাযথ সুন্দরী সাথে চলনসই মেধাবি কিন্তু পিতা-মাতা আর তাকে পড়াশুনা করাবেন না, বিয়ে দিবেন! জিজ্ঞাসা করেছিলাম – ‘এতো দ্রুত কেন?’ উত্তর এসেছিলো- ‘ছোট মেয়েটার রং উজ্জ্বল না, একটু মোটাও। বয়স হলে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। কিন্তু বড় মেয়ের বিয়ে না দিয়ে, ছোটটার কেমন করে দেই!’
এটা আমাদের সমাজে খুব সচারাচর ঘটনা! আমি সেই পিতাকে শান্তনার কথা শোনাই নাই। বরং রূঢ় স্বরে বলেছি-
‘কেন এমন আত্নীয় বানাবেন যে আপনার বাহির দেখে, আপনার ভিতরে ঝাঁক মেরে দেখে না?’
উত্তর খুব ছোট করে আমাকে আঘাত করার মতই পেয়েছি। আর কথা বাড়াতে ইচ্ছা হয় নাই, আমি জানি উনি এটা আজ পড়বেন না, তবুও উনার জন্য, সকলের জন্য- আমার লেখা অনেক আগের একটা কবিতা-
শ্যামবালিকা
চিনেছিলাম তারে, ভাঙা চশমা, ভাঙা কলম আর ছেঁড়া খাতা ছিলো
যেন বা প্রতিটি স্বপ্নের ভিতর দিয়ে বৃষ্টি নিয়ে এসেছে উদ্বেগের।
ভয়াবহ সে বৃষ্টি আমার বন্ধু মহলের আরাধ্য আর আমি
সে কি যুদ্ধবাজ সৈন্য এবং আমার সামনে এক শ্যামবালিকা।
আমার বাবার মৃত্যুবিষয়ক যত স্মৃতি,
তার চেয়েও ভয়াবহ সত্য সেই শ্যামবালিকা চোখে।’
এই সত্য দেখতে চাইলে আগে ‘মানুষ’ হতে হয়। প্রিয় ধনু, সত্য দেখার চোখ নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে, এটা আমার কথা না, গুণীজনের কথা। আপনার বিবাহ উপযুক্ত কন্যা, আপনার দুশ্চিন্তা চিন্তাগ্রস্থ জীবনের কারণ না, আপনার দুশ্চিন্তা চিন্তাগ্রস্থ জীবনের কারণ আপনার সত্য দেখার চোখ গঠনে নিবিড় পরিচর্যা না করা।

হঠাৎ করে অপরিচিত এক তরুণী হাত সামনে বাড়িয়ে বললো,
– আপনি নাকি হাত দেখেন? দেখেনতো, আমার আগামী দিনগুলো…
স্মিত হেসে বললাম,
– আমি হাত দেখিনা। তোমার হাসি দেখবো।
তরুনী রেগে গেলো!
-আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন?
এবার গুরুগম্ভীর হয়ে বললাম,
-তোমার মাকে আমি চিনি। কপাল জুড়ে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়, অথচ হাসলে তোমার পিতা রেগে যান বলে, হাসতে ভুলে গিয়েছেন। তোমার হাসি দেখে আমি তাঁর লুকান হাসি দেখতে চেয়েছিলাম।
কেন জানিনা, তরুণী এবার মুখ লুকিয়ে চলে গেলো। আমি তরুণীর হাসি দেখতে চেয়েছিলাম অন্যকিছু না। সত্যি আমি তার মাকে চিনি না! আমি নিশ্চিত ঘরে ফিরে, এই সন্তান তার মাকে জড়িয়ে আদর নিবে আর লুকিয়ে মায়ের কপালে সাদা মেঘ খুঁজবে সাথে খুঁজবে লুকিয়ে রাখা হাসি।

কারণে অকারণে এবার কথা বেশি হয়ে যাচ্ছে। স্বল্প কথায় বললেও সমস্যা আবার বেশি হইলেও সমস্যা। কথায় কথা বাড়ে… এই সপ্তাহে আপনার জন্য-
মন চলে যায় আকাশে, পাতালে, পাহাড়ে, সাগরে । মনকে নিয়ে আসো নিজেরই অন্তরে, যেন তা থাকে তোমারই নিয়ন্ত্রণে । [ঋগবেদঃ ১০.৫৮.২]

‘কেহ বিশ্বাস করে, কেহ করে না। যে বিশ্বাস করে সেও সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, যে অবিশ্বাস করে সেও না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নটা নির্ভর করে মানুষের খুশির উপর।’
(পুতুল নাচের ইতিকথা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ে)
কেমন যেন ধোঁয়াশা –ধোঁয়াশা লাগছে প্রিয় মীন! আমি আপনার খুব ভক্ত ! শুনলাম, এই আশ্বিনেও বৃষ্টি আসবে খুব। বাদ দেন!
শোনেন, যাই করেন না কেন, উৎরাতে পারবেন তো? আমি খুব করে চাই- আপনার কল্যাণ হোক।
জেনে রাখা ভালো-
১. জন্ম তারিখ অনুযায়ী ক্ষেত্র বিশেষে রাশি মেলে না (বেশ কিছু হিসাব থেকে যায়)।
২. এখানে রাশিচক্রে আমি ‘সংখ্যা তত্ত্ব-জ্যোতিষ’ পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করেছি।
৩. ভাগ্য অনেক ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট কারণে নিজের গতিপথ বদলাতে পারে এবং করেও।
