কানাডায় পাওয়া নতুন ফড়িংয়ের জীবাশ্ম শুধু এক নতুন প্রজাতি নয়, এক নতুন পরিবারকেও সংজ্ঞায়িত করেছে। এটি কীটপতঙ্গের সংরক্ষণ, বৈচিত্র্য ও ফড়িংয়ের বিবর্তন ইতিহাসে বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করেছে।
আলবার্টার ডাইনোসর প্রভিন্সিয়াল পার্কে এক চমকপ্রদ জীবাশ্ম আবিষ্কার গবেষকদের সামনে এনেছে নতুন এক প্রজাতির ফড়িংয়ের প্রমাণ। নতুন ফড়িংটির Cordualadensa acorni। জীবাশ্মটি আবিষ্কৃত হয় ২০২৩ সালে, ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতক শিক্ষার্থীর খনন অভিযানে। এটিই কানাডায় পাওয়া প্রথম ডাইনোসর যুগের ফড়িংয়ের জীবাশ্ম।
প্রথমে পাতা-জাতীয় জীবাশ্ম খোঁজার সময় হঠাৎই পাওয়া যায় আংশিক একটি ডানা। মানুষের হাতের সমান প্রস্থের এই ডানার ফড়িংটি প্রায় ৭.৫ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগে বাস করত। সে সময়ে এটি হয়তো বাস্তুতন্ত্রের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এরা ছিলো শিকারি ডাইনোসরের জন্য একেবারেই উপযুক্ত খাবার।

এই আবিষ্কারের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো, ফড়িংটির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবার তৈরি করতে হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে কর্ডুয়ালাডেনসিডি (Cordualadensidae)। একইসঙ্গে এটি উত্তর আমেরিকায় পাওয়া বৃহত্তর ফড়িং গোষ্ঠী ক্যাভিলাবিয়াটা (Cavilabiata)-এর প্রথম সদস্য।
এ জীবাশ্ম শুধু শ্রেণিবিন্যাসেই নয়, প্রাচীন কীটপতঙ্গ সংরক্ষণ সম্পর্কেও বিরল তথ্য দিয়েছে। সাধারণত এই পার্কে উদ্ভিদ আর মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্মই বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু ফড়িংটি ইমপ্রেশন ফসিল আকারে সংরক্ষিত হয়েছে যা এই অঞ্চলের কীটপতঙ্গ সংরক্ষণের নতুন ধারা নির্দেশ করে। গবেষকরা এরপর অনুসন্ধানের কৌশল বদলে আরও কীটপতঙ্গ জীবাশ্ম খুঁজে পাচ্ছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে লেট ক্রিটেশিয়াস যুগে কীটপতঙ্গের বৈচিত্র্য পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
ডানার গঠন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, Cordualadensa acorni উড়ার সময় ভেসে থাকার জন্য অভিযোজিত ছিল। এই বৈশিষ্ট্য আজকের মাইগ্রেশন করা ফড়িংদের মধ্যেও দেখা যায় এবং সম্ভবত তাদের বিবর্তনীয় সফলতার অন্যতম রহস্য। এই একটিমাত্র আবিষ্কার ডাইনোসর প্রভিন্সিয়াল পার্কে পরিচিত কীটপতঙ্গের রেকর্ড প্রায় দ্বিগুণ করেছে এবং ফড়িংয়ের বিবর্তনের ইতিহাসে ৩ কোটি বছরের ফাঁক পূরণ করেছে।
প্রাগৈতিহাসিক কানাডার জীববৈচিত্র্য বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারকে গবেষকেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ডাইনোসর আবাসস্থলগুলোর একটির পরিবেশগত ধাঁধায় এটি এক নতুন টুকরো প্রমাণ যোগ করেছে।
এই নিবন্ধটি Creative Commons লাইসেন্সের অধীনে “বিজ্ঞানবার্তা” থেকে থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধটি লিখেছে ইসরাত জাহান
