উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে আবারও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা , একইসাথে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে নাকাল জনজীবন। পৌষের শেষে কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত এ অঞ্চলের জনপদ। গত ৬ দিন ধরে মিলছে না সূর্যের দেখা। এ জেলায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তার দেয়া তথ্যমতে, আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পঞ্চগড়। গতকাল বিকেলে সামান্য রোদ দেখা গেলেও সে রোদে ছিল না উষ্ণতা। বিকেল থেকেই আবার হিমেল বাতাস বইছে। উত্তর-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। আর তাই এ অঞ্চলে এখন শীতের তীব্রতা বেশি।
আবহাওয়া তথ্যানুযায়ী, সাধারণত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এ ছাড়া ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ে রেকর্ড হয়েছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। গতকালের তুলনায় আজকে তাপমাত্রা কমেছে, আর তাই শেষ পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে এরই মধ্যে শিশু-কিশোর ও যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাই জবুথবু হয়ে পড়েছেন।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রয়েছে সূর্য। সকাল থেকে বিরাজ করছে মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ। তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পেশাজীবিরা। পাথর-চা শ্রমিক, দিনমজুর, থেকে নানান শ্রমজীবী মানুষ। কমে গেছে তাদের দৈনন্দিন রোজগার। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন তারা। প্রয়োজন ছাড়াও অনেকে ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বেড়িয়েছেন নিম্ন আয়ের পেশাজীবিরা।
