“আজকে যে সংকট, তা আমাদের নিজেদের সৃষ্টি নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা কিন্তু বসে নেই, কাজ করে যাচ্ছি,”
সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা চাপে পড়লেও, মূল্যস্ফীতি নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তির কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- “আজকে যে সংকট, তা আমাদের নিজেদের সৃষ্টি নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা কিন্তু বসে নেই, কাজ করে যাচ্ছি।”
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের অর্থনীতি, সরকারের উদ্যোগ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন সংসদ নেতা। বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি- ইমেডিয়েট কিছু সমস্যা রয়েছে। ডলার সংকট নিয়ন্ত্রণ করেছেন, রপ্তানি কমে আসছে, রেমিটেন্স কমে আসছে, গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় অনেক পোশাক শিল্পের উৎপাদন কমে আসছে, মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯.৫%-এ, অনেকগুলো ব্যাংক চলছে না, একীভূত করার পরামর্শ- এ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সরকার কীভাবে মোকাবেলা করবেন দেশবাসী জানতে চায়।”
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “কী কী করণীয় তা প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতিহারেও সবকটি কথা বলা রয়েছে। ব্যাংক খাত, আর্থিক খাতে দক্ষতা, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা বলা রয়েছে।
“আজকে যে সংকট, আমাদের নিজেদের সৃষ্টি নয়। এক দিকে করোনা অতিমারী ২০২০ সাল থেকে শুরু হল, যোগাযোগ, রপ্তানি বন্ধ ছিল এবং সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়, মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। তার আগ পর্যন্ত আমাদের মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে ছিল, পাঁচ ভাগের নিচে ছিল, প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের উপরে ছিল।”
তিনি বলেন, “অতিমারী, তার উপর ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ; স্যাংশন কাউন্টার স্যাংশন- যার ফলে প্রতিটি পণ্য, যা আমাদের আমদানি করতে হয়, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। যার সাথে সরবরাহ জাহাজ ভাড়া থেকে শুরু করে সাপ্লাই চেইন সবগুলোর বৃদ্ধি পায়। এই যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া, এটাকে ধারণ করা খুব কঠিন ছিল।”
সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি মাত্র দেশ, যেগুলো কোনো উন্নত দেশ করতে পারেনি, আমরা করেছিলাম। তিন-চারটা ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেশের মানুষকে দিয়েছি আমরা। যার ফলে অতিমারী যেভাবে হোক আমরা মানুষকে রক্ষা করতে পেরেছি। টেস্টিংও বিনামূল্যে করা হয়েছে।
“যখন কেবল এ অভিঘাত থেকে উত্তরণ ঘটাচ্ছি, তখনই ইউক্রেইন রাশিয়ার যুদ্ধে স্যাংশন কাউন্টার স্যাংশনে পড়ে গেলাম- যার ফলাফলে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার ফলে আমাদের খরচের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হতে হয়েছে, কিছু সংকুচিত করতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা কিন্তু অতটা খারাপ নেই।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডলারের যে সংকট ছিল, তা এখন ‘নেই’। আমদানি-রপ্তানির ব্যাপারে ‘মনিটরিং’ বাড়ানো হয়েছে। রপ্তানি আয় ‘খুব একটা কমেনি’।
“যেসব দেশে রপ্তানি করি, খুব ধনী দেশ, তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে। বাজার সংকুচিত হয়েছে তাদের। সেখানে অর্ডার একটু কমে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে তারা চাপে আছে এবং তাদের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেই তারই ফলে হয়ত কিছুটা কমেছে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছি, বাজার খুঁজে বেড়ানো, রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য বহুমুখীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি।”
গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের গ্যাস কিছু আছে। ইতোমধ্যে কূপ খননের মাধ্যমে নতুন গ্যাস ফিল্ডও পেয়েছি। উত্তোলন করতে কিছুটা সময়ও লাগবে। তাছাড়া ভোলার গ্যাস সিএনজি করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় ইন্ডাস্ট্রিতে আনার ব্যবস্থা করে নিয়েছি। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটা ভালোভাবে চালু হলে গ্যাস সংকটটা আর থাকবে না।
“পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। একটা বিষয় হচ্ছে, কৃষক যখন পণ্যটা উৎপাদন করে যথাযথ মূল্যটা না পায়, তাতে কৃষকের ক্ষতি হয়। আর মূল্য বৃদ্ধি পেলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের কষ্ট হয়। আমরা মানুষকে এ মূল্যস্ফীতি থেকে মুক্তি দিতে কোটি পরিবারকে টিসিবির পারিবারিক কার্ড দিচ্ছি। নিম্নবিত্তদের বিনা পয়সায় খাদ্য সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্নভাবে সহায়তা সহযোগিতা করে যাচ্ছি।”
সংসদ নেতা বলেন, “বিভিন্ন ব্যাংক, আসলে যেগুলো হয়ত ভালোভাবে চালাতে পারছে না। ইতোমধ্যে একটি ব্যাংক একীভূত করে দিয়েছি। পদ্মা ব্যাংক করা হয়েছে। ঠিক এভাবে আমরা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা কিন্তু বসে নেই, কাজ করে যাচ্ছি।”
